একই সময়ে (২০২৪-২০২৫) চট্টগ্রাম বন্দর জাহাজ হ্যান্ডলিং করেছে ৪ হাজার ৭৭টি, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৯৭১ টি। এতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, দীর্ঘস্থায়ী বন্যা, দুই ঈদের ছুটি, কাস্টমসের কলমবিরতি, সাম্প্রতিক এনবিআর শাটডাউন কর্মসূচি, পরিবহন ধর্মঘট সহ প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের হ্যান্ডলিং কার্যক্রম প্রায় দুই মাসের মত বাধাগ্রস্থ হয়।
তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ সকল বাধা বিপত্তি উপক্ষো করে বিগত অর্থবছরের তুলনায় আরো অধিক সংখ্যক কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করেছে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মোট আমদানির ২৩ শতাংশ হয় কনটেইনারে। বাকি ৭৭ শতাংশ আসে বাল্ক পণ্য, তেল ও কেমিক্যাল ট্যাংকারে। বন্দরে আসা এমন জাহাজের মধ্যে ৪৫ শতাংশই কনটেইনারবাহী, ৪৫ শতাংশ বাল্ক ক্যারিয়ার এবং ১০ শতাংশ তরল পণ্যবাহী জাহাজ।
দেশের মোট কনটেইনার বাণিজ্যের প্রায় ৯৯ শতাংশ পরিচালিত হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। বাকি ১ শতাংশ মংলা বন্দর থেকে পরিচালিত হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, বিদায়ী অর্থবছরে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং এ নতুন রেকর্ড করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। তবে অর্থবছরের শেষের ২/৩ দিন এনবিআরের শাটডাউন না থাকলে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সংখ্যা ৩৩ লাখ হতো। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এমন সাফল্যে নিঃসন্দেহে দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের গতিকে সমৃদ্ধির শিখরে নিয়ে যেতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, এ সাফল্যের মূলে রয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার প্রত্যক্ষ নির্দেশনা, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতা এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড সদস্যদের নিরলস তদারকি ও বন্দরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আন্তরিক প্রচেষ্টা।
এছাড়াও বন্দরের অটোমেশান সার্ভিস সুবিধা, ই-গেট পাস চালু, কন্টেইনার অপারেটিং সিস্টেম আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নও এ সাফল্যের উল্লেখযোগ্য অংশ।
একই সাথে বন্দর ব্যবহারকারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, দ্রুত কন্টেইনার ডেলিভারি নেওয়ার প্রবণতা, বন্দরের সাথে সার্বাক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করাসহ তাদের সার্বিক সহযোগিতা এ সফলতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।